You are here
Home > All Post

The way to gain the grace of God (স্রষ্টার কৃপা লাভের উপায়)

কি ভাবে আমাদের প্রার্থনা কবুল হবে-

প্রার্থনা কবুলের হাজারও শর্ত আমরা জানি। ইতিমধ্যে এধরনের প্রশ্ন অনলাইন মিডিয়ায় এসেছে বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু মহাগুরু পাদ্রি মুফতী কর্তৃক এর সমাধান উত্তর আমরা দেখেছি বা শুনেছি। কিন্তু সেসব কিছু মানার পরেও আমাদের প্রার্থনা কবুল হচ্ছেনা। কিন্তু কেন কবুল হয়না আমি যাকে ভালোবাসি, কায়মনে যার দাসত্ত করি সে কেনো আমাকে ভালোবাসবেনা, আমার প্রার্থনা শ্রবন করবেনা, তার কৃপাদৃষ্টি ফেলবেনা। আমি যাকে ভালোবাসবো সেও আমকে ভালোবাসবে তবেই হবে ভালোবাসা নতুবা সেটা ভালোবাসা না সেটা কোন প্রেম না। স্রষ্টার সাথে যে প্রেম সে প্রেম একতরফা হবে কেন।আজ আমরা জানবো স্রষ্টার সাথে সত্যিকার অর্থে হৃদয়ের অন্তস্থল হতে কিভাবে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করা যায়।

আমরা জানি বিভিন্ন ধর্মমত অনুসারে আমরা একএক ধর্মের লোক স্রষ্টাকে একএক নামে ডাকি।কিন্তু প্রাকৃতপক্ষ্যে সবাই আমরা এক স্রষ্টার কাছেই আরাধনা করি।সে বিষয়ের উপরেই আজকের আলোচনা। এবার হতে আপনারা কেউ স্রষ্টার কাছে কোন প্রার্থনা জানিয়ে বা আরাধনা পেশ করে নিরাশ হবেন না। আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থনা অবশ্যই কবুল হবে। স্রষ্টার সাথে আমাদের যে সম্পর্ক্য হবে সেটা হবে ভালোবাসার, শ্রদ্ধার, আত্বিক, খাদহীন, আর স্রষ্টাও তার সৃষ্টিকে অবশ্যই ভালোবাসবে এবং সে ভালোবাসাটা হবে নিগুড় ভালোবাসা। তো প্রথমেই আমাদের জানা উচিৎ কিভাবে আরাধনা করলে সৃষ্টি কর্তা কখনই আমাদের বিমুখ করবে না। এ জন্য আমদের কিছু সর্ত মানতে হবে।সর্তগুলো হচ্ছেঃ ধর্মমত অনুসারে আমরা জানি শরীর পাক, হৃদয় পাক, অন্তরের বিশ্বাষ অবশ্যই জরুরী। তবে এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই, সেটি হচ্ছে শরীর পাক- এ বিষয়টি জরুরী নয়। কারন বান্দা যেকোন মুহুর্তেই স্রষ্টাকে ডাকতে পারে। আমার কোলের সন্তান যদি কাদা মাটি বা নোংরা কিছু শরিরে মেখে আমার দিকে ছুটে আসে তাহলে কি আমি তাকে কোলে নিবো না নাকি লাথি মেরে তাকে ফেলে দিবো? সেটা কখনই হয়না। এতএব স্রষ্টাকে আমি যখনই ডাকি যে অবস্থাতেই ডাকি না কেন তিনি আমার ডাকে সাড়া দিবেই। তবে এখানে কিছু শর্ত আছে, যা আমাদের মানতে হবে আমি যদি স্রষ্টার কথা মানি স্রষ্টাও আমার কথা মানবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সর্তগুলো কি ?
সর্তঃ-
>> প্রথম সর্ত হচ্ছে হারাম খাওয়া যাবে না-

বর্তমান সময়ে আমরা দেখি “সুদ আর ঘুষ” এই দুইটা জিনিস এমন এক পর্যায়ে চলে এসেছে। যা আমাদের চলমান জীবনের সঙ্গি হয়ে গেছে। বর্তমান সমাজে আমরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এই জঘন্য গরহিত কাজটিকে হালাল করার চ্ষ্টো করি, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যেটা হারাম সেটা হারামেই। আমরা যদি টয়লেটের পায়খানা সুন্দর করে একটা প্লেটে সাজিয়ে তার উপর কেকের পেষ্ট লাগিয়ে কোন ব্যক্তির নিকট উপস্থাপন করি তাহলে কি সে টা কোন মান সম্মত খাবার হবে? ঠিক তেমনি ভাবে ধর্মের নামে ব্যাংক খুলে সেখানে হালাল টাকা রাখি আর আমরা সুদের পরিবর্তে নাম দিয়েছি মুয়াজ্জাল, মুরাবাহ, ইসতিসনা, মুদারাবা, মুশারাকা ইত্যাদি যার গভিরে দেখলেই বোধগম্য হয় উপরে এক ভিতরে এক। তা হালাল বলে চালিয়ে দেই। কিন্তু আমরা জানি সুদ সুদেই এটা খাওয়া ব্যবহার চলবে না।বর্তমান সময়ে একটা প্রথা বহুল প্রচলিত আছে সমিতি বা ইন্জিও। এগুলো থেকে আমরা টাকা নিয়ে থাকি বিনিময়ে আমাদের সুদ দিতে হয়।যেহুতু সব খানেই আমরা দেখেছি যে, সুদ দেওয়া বা সুদ খাওয়া দুটোয় সমান তাহলে এগুলো কখনই চলবে না।
পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নেই যেখানে বলা আছে সুদ ও ঘুস খাওয়া বা দেওয়া যাবে। যেহুতু এটি একটি ধর্ম বিরোধী কাজ তাহলে অবশ্যই এ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

অনেক বড় একটি সমস্যা যৌতুক প্রথা, আমাদের দেশের আলেম, ওলামা, দাড়ি, টুপি ওয়ালারা প্রায়শই বলে থাকে যৌতুক নেয়া বা দেয়া যাবে না, কিন্তু কঠিন দুক্ষের বিষয় ব্যক্তিগত জীবনে যত আলেম ওলামা দাড়ি টুপি ওয়ালা দেখলাম কাউকে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করতে দেখলাম না, তবে এর উল্টোটা মাঝে মাঝে চোখে পড়ে তা হলো যারা ধার্মিক না তারাই কিন্তু অনেকেই যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করছে। অবশ্যই এখানেও ওই একটি বিষয় রয়েছে যেমন ধার্মিকরা যৌতুক নেয় না অনেকেই তাদেরকে আবার খুশি করে দিতে হয়। আমি বলবো সেই সকল মানুষদের যতদিন সেই মেয়ে আপনার বাড়ীতে থাকবে তার সন্তান সন্ততী আপনার ওয়ারিস হয়ে থাকবে ততদীন পর্যন্ত আপনার পরিবারের কাহারো কোনোদিন নেক মাকসুদ উপর ওয়ালার তরফ হতে পূর্ন হবে না, কারন আপনি একটি পাপের বৃক্ষ রোপন করেছেন, যা পাপে জারিয়া হয়ে আপনার রক্তে মিশে গেছে।

>> প্রানী ভক্ষন চলবে না-
এই বিষয়টিতে অনেকেই দ্বিমত পোষন করে থাকে কিন্তু একটু ভাবুন, পৃথিবীতে যতগুলো আমলে তাবিজাৎ আধ্যাতিক কিতাব রয়েছে সকল কিতাবের শুরুতেই এটি বলা রয়েছে যে কোনো ধরনের প্রানী হত্যা বা ভক্ষণ চলবে না। এখানে আমার ব্যক্তিগত একটি কথা হচ্ছে দেখুন সকল কিছু স্রষ্টাই যদি একজন হয়ে থাকে তবে কি করে একজন স্রষ্টা তার সৃষ্টি জগতের একটি অন্যটিকে ধ্বংস করবে সেটিতে সন্তুষ্ট হতে পারে??
>> লুঙ্গি বা ধুতি পরে প্রার্থনা কবুল হয়না-
এই কথাটির সাথেও সকলেই দ্বিমত পোষন করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবিকতা এটাই যে স্রষ্টার নিকট যখন আপনি প্রার্থনা করবেন তখন এমন পোষাক পরিধান করে প্রার্থনা করুন যার নিচের দিক হতে গোপনাঙ্গ ঢাকা থাকে। কখনই লুঙ্গি বা ধুতি বা এমন কিছু পড়ে প্রার্থনা করবেন না।
>> আপনার প্রার্থনার বিষয়টি কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না-
আপনার সাথে স্রষ্টার সর্ম্পক্য ভালোবাসার সকল ক্ষেত্রেই দেখা যায় দুজনের স্থলে তিনজন হলেই সেখানে সমস্যা সৃষ্টি হয়, প্রেম আর প্রেম থাকে না, তেমনি আপনি স্রষ্টার সাথে কথপোকথনের সময় যদি বিষয়গুলো অন্য কাহারো সাথে শেয়ার করেন বা কেউ যেনে যায় তবে সেই প্রার্থনা কবুল হওয়ার সম্ভবনা থাকে না।
 
>> সকল সময় প্রার্থনা কালিন চেষ্টা করবেন একক ভাবে নির্জনে বসে স্রষ্টার নিকট মনের আহাজারি জানাতে, গোপনিয়তা খুবই প্রয়োজনিয়, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, পেগোডা ইত্যাদিতে গিয়ে সমিষ্টিগত প্রার্থনা করতে হলে সমিষ্টিগত স্বার্থের বিষয় প্রার্থনা করুন, কিন্তু নিজের একান্ত চাহিদা পূর্নের ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্জনতা একাকিত্ব নির্বাচন করুন।
>> প্রার্থনার ক্ষেত্রে কখনই দ্বিতীয় অপশন রাখবেন না-
অর্থাৎ ধরুন আপনার ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, আপনি হয়তো আপনার কোনো নিকট জনের নিকট চেয়েছেন, সে আপনাকে বলেছে দেখা যাক আমি চেষ্টা করছি, এমতা বস্থায় আপনি প্রার্থনাতে বসলে স্বভাবতই আপনার মনে আসবে, উপর আলা দিক না তো আমার সেই নিকটজন যেনো দেয়। এমন ক্ষেত্রে প্রার্থনা কবুলের সম্ভবনা থাকে না, যখন কিছু স্রষ্টার নিকট চাইবেন তখন যেনো আপনার অন্য কোনো অপসন খোলা না থাকে, এ জন্যই দেখা যায় ঠিক তখনি আমাদের অধিকাংশ প্রার্থনা কবুল হয় যখন আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়।
 
>> সর্বশেষ শর্ত হচ্ছে যখন স্রষ্টার নিকট কোনো কিছু চাইবেন তা অন্তরের অন্তস্থল হতে কেদে কেদে চাইবেন, স্রষ্টার নিকট আপনার অশ্রুর মূল্য অনেক, আপনাকে সে কখনই খালি হাতে ফিরাবে না।উপরক্ত শর্তগুলো মেনে আজই স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করুন দেখুন আপনার প্রার্থনা সাথে সাথেই কবুল হবে।

Sharing is caring!

Top
error: Content is protected !!