Good sign of the hand line (হস্ত রেখায় মঙ্গল চিহ্ন সমূহ)

শিবোক্ত সামুদ্রিক করচিহ্ন দৃষ্টে শুভাশুভ জ্ঞানঃ

যাহার করতলে মৎস্যের মতো রেখা দৃষ্ট হয়, সে ব্যক্তি যে-কোন কার্যেই প্রবৃত্ত হউক না কেন, তাহার মনোবাঞ্ছা সিদ্ধ হইয়া থাকে। সে প্রভূত ধনশালী এবং বহু পুত্রের জনক হইয়া থাকে।

যাহার করতলে তুলাদণ্ড, গ্রাম বা ব্রজ সদৃশ রেখা দৃষ্ট হয়, সে ব্যক্তি ব্যবসা-বানিজ্যে অবশ্যই প্রভূত উন্নতি বিধানে সমর্থ হইয়া থাকে।

স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে যাহাদের করতলে পদ্ম, ধনু, খড়গ বা অষ্টকোণাদি চিহ্ন দৃষ্ট হয়, তাহারা সকলেই ধনী ও সুখী হইয়া থাকে।

যে পুরুষের করতলে শঙ্খ, চক্র, ধ্বজ, গজ ও মাষ চিহ্ন দৃষ্ট হয়-সে সর্ববিদ্যাযুক্ত ও বুদ্ধিমান হইয়া থাকে।

যাহার করতলে ত্রিশুল চিহ্ন দৃষ্ট হয় সে ব্যক্তি রাজা বা রজতুল্য হইয়া থাকে। তিনি যাগযজ্ঞ প্রভূতি ধর্মানুষ্ঠানে আগ্রহশীল, দেবদ্বিজে সতত ভক্তিপরায়ণ এবং সমাজে দানশীল ও পুণ্যাত্মা বলিয়া গণ্য হইবেন।

যাহার করতলে তোমর, শক্তি, বাণ ও তীর চিহ্ন দৃষ্ট হয়, সেই ব্যক্তি রাজ্যলাভ করিয়া থাকে। যাহার হস্তে রথ, চক্র, ধ্বজসদৃশ চিহ্ন থাকে-তিনি রাজ্যলাভ করিয়া থাকেন অথবা রাজতুল্য সম্পদ লাভ করিয়া থাকেন।

যাহার করতলে অঙ্কুশ, কুণ্ডল ও চক্রচিহ্ন দৃষ্ট হয়, তিনি রাজচক্র- বর্তী হইয়া সুখে কাল জাপন করিতে সমর্থ হন।

যাহার করতলে গিরি, কঙ্কন, যোনি বা ঘট চিহ্ন দৃষ্ট হয়- তিনি রাজমন্ত্রী হইয়া থাকেন।

যাহার করতলে সূর্য, চন্দ্র, লতা, নেত্র, ত্রিকোণ, অষ্টকোণ মন্দির, অশ্ব বা হস্তী চিহ্ন দৃষ্ট হয় তিনি অবশ্যই সুখী হইয়া থাকেন।

যাহার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের অর্ধভোগে যব চিহ্ন পরিদৃষ্ট হয় তিনি আজীবন ভোগী ও সুখী হইয়া থাকেন।

যাহার মধ্যমা বা তর্জনীর মূলে যবচিহ্ন দৃষ্ট হয় সে ব্যক্তি ধন পুত্র কলত্রযুক্ত ও সুখী হইয়া থাকে।

যাহার করতলে কনিষ্ঠার মূল হইতে অনামিকার মূলের পূর্বভাগ পর্যন্ত (আয়ুরেখা, মতান্তরে হৃদয়রেখা) রেখা দৃষ্ট হয়, সে ব্যক্তি মাত্র দশ বৎসর কাল জীবিত থাকে।

যে ব্যক্তির বৃদ্ধঙ্গুষ্ঠের উপরিভাগে শুভ লক্ষণযুক্ত ঊর্ধ্বরেখা দৃষ্ট হয়, তিনি রাজা বা সেনাপতি হইয়া থাকেন। এই প্রকার চিহ্নযুক্ত ব্যক্তি সচরাচর মধ্যমায়ূ লাভ করিয়া থাকেন। অর্থাৎ তাহাদের পরমায়ূ পঞ্চাশ হইতে ষাট বৎসরের মধ্যে হইবে।

যাহার করতলে তর্জনীর মূলভাগ পর্যন্ত ঊর্ধ্বরেখা প্রলম্বিত তিনি রাজদূত হন, কিন্তু তাহার স্বধর্মে আস্থা থাকে না। অথবা যে কোন ভাবেই হউক তাহার ধর্ম নষ্ট হইয়া থাকে।

যাহার হস্তে মধ্যমা অঙ্গুলির মূল পর্যন্ত ঊর্ধ্বরেখা দৃষ্ট হয় সেই ব্যক্তি পুত্রপৌত্রাদি সমন্বিত, ধনশঅলী ও সুখী হইয়া থাকে।

যাহার করতলে ঊর্ধ্বরেখা অনামিকার মূলদেশ পর্যন্ত প্রলম্বিত, তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভূত অর্থ উপার্জন করিতে সক্ষম হন, এবং পুত্র পৌত্র ও গৃহাদিযুক্ত হইয়া কখনও সুখে বা কখনও দুঃখে কালাতিপাত করেন।

যাহার করতলে কনিষ্ঠার মূলদেশ পর্যন্ত প্রলম্বিত ঊর্ধ্বরেখা দৃষ্ট হয়, তিনি চিরদিন বিদেশে বাস করেন এবং তাঁহার পরমায়ূ একশত বৎসর পর্যন্ত হইয়া থাকে।

কনিষ্ঠার মূলে রেখা দৃষ্ট হইলে, সেই ব্যক্তি দীষ্ফ, ধর্ম, পদবী, বিঘা, মান ও অপমানযুক্ত হইয়া সুখে বাস করিয়া থাকেন।

যাহার করতলে কনিষ্ঠার মূল ও তর্জনীর মূল পর্যন্ত প্রলম্বিত রেখা দৃষ্ট হয়, তিনি শতবর্ষ পরমায়ূ লাভ করেন, এবং তাহার সুখমৃত্যু হইয়া থাকে অর্থাৎ মৃত্যুকালে তাঁহাকে কষ্টভোগ করিতে হয় না।

যাহার করতলে আয়ূরেখা (মতান্তরে হৃদয়রেখা) কনিষ্ঠার মূল হইতে মধ্যমার মূল দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত তিনি চতুর্দশ বা চতুবিংশতি বৎসর পর্যন্ত পরমায়ু লাভ করেন এবং তাহার বংশ বিনষ্ট হইয়া থাকে।

যহার পরমায়ূ রেখা কনিষ্ঠার মূল হইতে অনামিকার মূল পর্যন্ত প্রবম্বিত, তিনি ১৩ অথবা ৬৩ বৎসর পর্যন্ত পরমায়ূ লাভ করেন। জাতকের দৈহিক বলও থাকে না।

করতলস্থিত পরমায়ূ রেখা ক্ষুদ্র হইলেই জাতক অবশ্যই স্বল্পায়ূ যুক্ত হইবেন। যাহাদের পরমায়ূ রেখা ক্ষুদ্র অথচ বিস্তৃত, তাহারা কখনও সুখে, কখনও দুঃখে জীবন অতিবাহিত করিয়া অল্প বয়সেই মৃত্যুমুখে পতিত হন।

করতলে পিতৃরেখা সম্পুর্ণরুপে অঙ্কিত থাকিলে জাতক আপন পিতার ঔরসে জাত, কিন্তু পিতৃরেখা (মতান্তরে আয়ূরেখা) অর্ধরুপ অঙ্কিত থাকিলে জাতক অন্যের ঔরসজাত এরুপ বুঝিতে হইবে।

হস্তে মাতৃরেখা ও পিতৃরেখা পৃথক-পৃথকভাবে অঙ্কিত থাকে, কখনও পিতৃরেখা যুগ্মরেখারুপেও অঙ্কিত থাকে।

যাহার করতলে অত্যাধিক রেখাযুক্ত সে দুঃখী হইয়া থাকে। যাহার করতলে অল্পমাত্র রেখা দৃষ্ট হয় সে ধনহীন, যাহার মধ্যবিম্ব রেখা দৃষ্ট হয় সে মানসিক দিক হইতে সুখী হইয়া থাকেন।

বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যতীত করতলের অঙ্গুলি চতুষ্টয়ের পর্বরেখা গুনিয়া যদি দ্বাদশটি পৃথক রেখা দৃষ্ট হয়, সে ব্যক্তি ধনধান্যাদিযুক্ত ও সুখী হইয়া থাকে।

যাহার করতলে অঙ্গুলি চতুষ্টয়ের পর্ব রেখা গুণিলে পৃথক-পৃথক ভাবে ত্রয়োদশটি রেখা দৃষ্ট হয় সে ব্যক্তি মহাদুঃখ ও মহাকষ্ট পাইয়া থাকে।

অঙ্গুলি চতুষ্টয়ের পর্বরেখার সমষ্টি পঞ্চদশ হইলে, জাতক তস্কর হইবে, ষোল হইলে জাতক প্রবঞ্চক ও দ্যুত ক্রীড়াসক্ত হইবে, সপ্তদশ হইলে পাপাত্মা, অষ্টদশ হইলে ধর্মি, ঊনবিংশ হইলে জাতক গুনী, মানী ও লোকপূজ্য হইবে।

করতলে অঙ্গুলি চতুষ্টয়ের পর্বরেখা বিংশতি হইলে জাতক তপস্বী এবং একবিংশতি হইলে জাতক মহাত্মা হইয়া থাকে। যাহার ললাট উন্নত, বিশাল, শঙ্খকার, উর্চ্চ নীচ ও অর্ধচন্দ্রাকার তিনি ধনহীনের গৃহে জন্মিলেও ধনশালী হইবেন।

যাহার ললাটদেশ ঝিনুকের মতো বিস্তৃত, তিনি অধ্যাপক হইবেন। বহু শিরা সমন্বিত যাহার ললাটদেশ ঝিনুকের মত বিস্তৃত, তিনি অধ্যাপক হইবেন। বহু শিরা সমন্বিত যাহার ললাট, তিনি পাপাত্মা, যাহার ললাট স্বস্তিক চিহ্নযুক্ত এবং উন্নত শিরা সমন্বিত, তিনি বিদ্ব্যান ও ধনবান হইয়া থাকেন।

Sharing is caring!

Top
error: Content is protected !!