Know the importance of reading Bismillah (জেনে নিন বিসমিল্লাহ পাঠ করার গুরুত্ব ও ফযিলত)

Magic Spells (তান্ত্রিক তদবীর)

“বিসমিল্লাহ্” শরীফের আমল ও ফজীলতঃ-

যখন বান্দা “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে, তখন শয়তান এমন ভাবে নরম হইয়া যায়, যেমন ভাবে শীশা আগুনে বিগলিত হয়।

যে ব্যক্তি তাহার জীবনে একবার “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” পাঠ করে তাহার একবিন্দু গুনাহও অবশিষ্ট থাকে না অর্থাৎ সমস্ত গুনাহই মাফ হইয়া যায়।

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলিয়াছেনঃ-

যদি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম না হইত তবে বিশ্ব সংসার হালাক হইয়া যাইত।

হযরত আবুবক্কর সিদ্দীক (রাঃ) বলিয়াছেনঃ-

কি খুশী তাহার জন্য যে, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করে। কিয়ামতের দিবস সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে মগ্ন হইয়া থাকিবে। অর্থাৎ তাহাকে অজস্র ধারায় বেহেশতের নেয়ামত দান করা হইবে।

তাফসীরে কবীরে আছেঃ-

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ পাক জনৈক নবীর উপরে অহী পাঠাইয়াছিলেন যে, কোন ব্যক্তি জীবনে চারি হাজার বার বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করিয়াছে বলিয়া তাহার আমল নামায় লিখা থাকিবে। কিয়ামতের দিবস তাহার ঝাণ্ডা আরশের নিকট স্থাপিত হইবে।

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” দ্বারা যেমন পরলৌকিক মকসুদ হাসের হয় তেমনি উহার বরকতে অসংখ্য দুনীয়াবি মনোবাসনা ও পূর্ণ হইয়া থাকে।

১) ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলিয়াছেন যে, কোন নেক নিয়ত পূরণের জন্য একরাতে ১২ হাজার বার বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করিলে অবশ্যই আল্লাহ উহা পূরণ করিবেন। প্রতি এক হাজার বার পড়ার বাদে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবে।

প্রত্যহ ফজর এবং এশার নামাজের বাদে সাতশত সাতাশি বার পাঠ করিলে যে কোন বিপদাপদ হইতে নিরাপদ থাকা যায়।

বর্ষার পানির উপর ইহা এক হাজার বার পড়িয়া কাহাকেও সেই পানি পান করাইলে সে ব্যক্তি সকলের প্রিয় পাত্র হইবে।

২) একাধারে সাত দিন পর্যন্ত সূর্যোদয়ের সময় ঐ পানি যে কেহ পান  করিলে স্মরণ শক্তি ও ধী শক্তি অত্যন্ত বৃদ্ধি পাইবে।

৩) বেশী পরিমানে ইহা পাঠ করিলে আল্লাহ তায়ালা অভাবনীয় রুপে রোজগার বরকত দান করেন।

৪) কোন অত্যাচারী নিষ্ঠুর ব্যক্তির সম্মুখে বসিয়া চুপে চুপে ইহা পাঠ করিলে উহার মন কোমল হইয়া যাইবে এবং ভক্তিও করুণার উদ্রেক হইবে।

৫) দৈনিক ইহা আড়াই হাজার বার পাঠ করিয়া শয়ন করিলে তাহার অনুগত হইয়া যাইবে।

৬) অনাবৃষ্টি হইলের খাঁটি দেলে ইহা একাত্তরবার পাঠ করিয়া বৃষ্টির জন্য দোওয়া করিলে আল্লাহ পাকের রহমতে শীঘ্রই বৃষ্টিপাত আরম্ভ হইবে।

৭) প্রত্যহ রবিবার সূর্য উঠিবার সময় কিবলার দিকে মুখ করিয়া ৩১৩ বার ইহা পাঠ করিয়া একশত বার দরুদ শরীফ পড়িলে আয় রোজগার উন্নতি হয়।

৮) কোন কয়েদী ব্যক্তি কারাগারে বসিয়া এক বৈঠকে ইহা ১ হাজার বার পাঠ করিলে সে অচিরেই মুক্তিলাভ করিবে।

৯) নিদ্রা যাইবার পূর্বে একুশবার ইহা পাঠ করিয়া শয়ন করিলে সেই পাত্রে ডাকাত, জ্বীন শয়তান বা অন্য যে কোন বালা মুসিবত হইতে নিরাপদ থাকিবে।

১০) কোন উন্মাদ মৃগী রুগী বা জ্বীনে ধরা রোগীর কানে ইহা ৪১ বার পাঠ করিয়া দম করিলে আল্লাহর রহমতে এইসব আপদ হইতে মুক্তি পাইবে।

১১) কাগজ কিংবা অন্য কোন বস্তুতে ৬২৫ বার লিখিয়া ইহা সঙ্গে রাখিলে সকলের কাছে মান মর্যদা ও ভক্তি শ্রদ্ধা লাভ করিবে।

১২) দৈনিক নিয়মিতভাবে ইহা একবার পাঠ করিলে তাহার যে কান মকসুদ আল্লাহ তায়ালা পূরণ করিবেন।

১৩) বেশী পরিমাণে ইহা পাঠ মৃত মাতা পিতার গুনাহ সমূহ ইহার উসিলায় মাফ হইবার আশা করা যায়।

১৪) যে কোন দুঃখ গ্রন্থ বেদনা রুগীর উপর সাত দিন ইহা একশতবার পড়িয়া দম করিলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগ ভাল হইয়া যায়।

১৫) সাতদিন রোজা রাখিয়া প্রত্যেহ এক জনশূন্য জায়গায় বসিয়া ৭৮৭ বার দৈনিক ইহা পাঠ করিলে যে কোন নেক নিয়ত থাকুক না কেন অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাহা পুরা করিয়া দেন।

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, দোজখের প্রধান ফেরেশতা মালেক যখন (তাহার অধীনস্ত) কোন ফেরেশতাকে দোজখের বিভিন্ন কক্ষে কোন পাপীকে নূতন শাস্তি দিবার জন্য পাঠাইবেন তখন তিনি সেই ফেরেশতার ললাটের উপর “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লিখিয়া দিবেন। ইহাতে সেই ফেরেশতার দোজখের অভ্যন্তরে চলাফিরা করিতে কোনই অসুবিধা হইবে না। দোজখের আগুন তাহার শরীরের এতটুকু ক্ষতি করিতে পারিবে না।

১৬) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সহিত সুরা ফাতেহা মিলাইয়া পড়িয়া প্লেগ বা কলেরা রুগীর শরীরে দম করিলে রোগ ভাল হইয়া যায়।

১৭) ফজরের সুন্নত নামাজ এবং ফজর নামাজের মধ্যে একচল্লিশবার বিসমিল্লাহির সহিত সুরা ফাতেহা পড়িলে আল্লাহর নিকট যাহা চাওয়া হয় তাহাই পাওয়া যায়। একাধারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই আমল করিলে চাকুরী হীন ব্যক্তি চাকুরী লাভ করিবে, বন্ধ্যা স্ত্রীর সন্তান লাভ জন্মিবে, শত্রুগন দমন থাকিবে।

১৮) প্রত্যেক ছোবহে ছাদেকের পূর্বে উঠিয়া ইহা একচল্লিশ বার পাঠ করিলে যে কোন কাজ তাহার নিকট আসান হইবে।

১৯) দৈনিক তিশত বার ইহা পাঠ করিলে আল্লাহ সকল মতলবসমূহ অতি সত্বর পূর্ণ করিবেন।

২০) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সহিত সুরা ফাতেহা মিলাইয়া চল্লিশ বার পড়িয়া প্রত্যেকবার পানিতে দম করতঃ সেই পানি যে কোন জ্বরের রুগীর চেহারায় ছিটাইয়া দিলে আল্লাহর রহমতে অতি সত্বর তাহার জ্বর ভাল হইয়া যাইবে।

কোন এক কিতাবে এইরুপ একটি ঘটনা বর্ণিত আছেঃ- রোম সম্রাট ‘কায়ছার’ ইসলাম গ্রহণ করিবার পর একবার হজরত ওমর (রাঃ) এর নিকট এই বলিয়া একখানা পত্র প্রেরণ করিয়াছিলেন যে, হুজুর। আমি এক নিদারুন ভাবে মাথায় যন্ত্রণায় ভুগিতেছি। বহু চিকিৎসা করাইতেছি কিন্তু কিছুতেই কিছু হইতেছে না, এখন কি করিবো পরামর্শ দান করুন। হজরত ওমর (রাঃ) তখন একটি কাল রংয়ের টুপী তৈরী করাইলেন এবং উহা পরিধান করিবার জন্য কায়ছারের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। কায়ছার এই টুপী পাইয়া অত্যন্ত তাজিম ও ভক্তির সহিত ইহা মাথায় পরার সঙ্গে সঙ্গে রাখিতেন ততক্ষণ তাহার মাথায় ব্যাথা থাকিত না। যখন ইহা মাথা হইতে নামাইয়া রাখিতেন তখন আবার ব্যাথা আরম্ভ হইত। কায়ছার ইহার কারণ বুঝিতে পারিলেন না। অবশেষে তিনি আবিস্কার করিলেন যে টুপীটির মধ্যে এক টুকরা কাগজ লাগান আছে এবং উহাতে মাথা ব্যাথার দাওয়া রুপে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখা রহিয়াছে। অন্য এক কিতাবে একটি ঘটনা বর্ণিত আছেঃ-বাশার হাফী তাহার প্রথম যৌবনে একদা শয়াবখানায় ইবার পথে “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম “ লিখিত একখানা কাগজ পাইয়া পরম ভক্তি করে উহা চোখে মুখে লাগাইয়া কাগজে টুকরা এক পবিত্র স্থানে রাখিয়া দিলেন। অতঃপর তিনি শরাবখানায় গিয়া আমোদ প্রমোদ ও শরাব পান করিয়া বেছশ ভাবে শুইয়া রহিলেন। স্থানীয় তাপস হাসান বসরীর (রাঃ) নিকট তখন এলহাম হইল যে, বাশার হাফীকে গিয়া শরাবখানা হইতে উঠাইয়া আনিয়া তাহাকে আমার সু-সংবাদ দান কর। তিনি এই আদেশ প্রাপ্ত হইয়া শরাব খানায় চলিয়া গেলেন। এরুপ জায়গায় তাহাকে দেখিয়া সকলে আশ্চর্য হইয়া গেল। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তায়ালা বাশার হাফীর প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া তাহাকে এখানে প্রেরণ করিয়াছিলেন। অতঃপর তিনি বাশার হাফীক খোশ খবরী শুনাইয়া দিলেনঃ-

আল্লাহ বলিয়াছেন, হে বাশার! তুমি আমার নামের সন্মান করিয়াছ, সেই জন্য আমি তোমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করিয়া দিলাম।