Political knowledge (রাজনৈতিক তদবীর)

Political knowledge (রাজনৈতিক তদবীর)

আমাদের সর্ব সাধারন অনেকেই জানি না যে তান্ত্রিকতার বিচরণ সবচাইতে বেশি যে স্থানটিতে সেটি হচ্ছে রাজনীতি, যুগ যুগ ধরে এই তান্ত্রিকতা ও রাজনীতি একে অপরের হাত ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে কিছু আধুনিক শিক্ষিত রাজনীতিবীদ অজ্ঞতাবসত তান্ত্রিকতা থেকে দুরে সরে থাকার কারনেই তাদের পদে পদে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, দিতে হচ্ছে চরমতম খেসারত। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রিয় নেতা/নেত্রীগণ তদের দৈনন্দিন প্রতিটি কাজের পূর্বেই তার ভলমন্দ বিজ্ঞ তান্ত্রিক বা গুরুগণের নিকট জেনে নিয়ে তাদের অনুমতি সাপেক্ষে অগ্রসর হয়ে থাকেন। বর্তমানে  আমাদের চারপার্শে দ্রুততার সহিত প্রাচীন রাজকিয় বুদ্ধির খেলা উত্তরাত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের মাঝে রাজনীতিবীদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেরে চলেছে, সেই সাথে হিংসা, রক্তারক্তি, খুন, জখম সেটিও সমান ভাবে বাড়ছে। বলা হয়ে থাকে রাজনীতি হচ্ছে রাজাদের খেলা বা পেশা, কিন্তু আমরা দেখছি বর্তমানে রাজনীতি আর রাজাদের মাঝে সিমাবন্ধ নয়, বিশেষ করে যে সকল দেশে প্রজাতন্ত্রের স্থলে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতীক খেলাটি এখন সর্বস্তরের মানুষের খেলায় পরিনত হয়েছে, যার ফলে ফুটপাতের টোকাই থেকে শুরু করে দেশের বরেন্য শিল্পপতি সকলেই এই খেলায় যোগ দিচ্ছে।

আমাদের রাজনীতিতে নিত্যনতুন মুখ হটাৎ করেই উঠে আসছে, যার ফলে অনেক নবীন রাজনৈতিক রাজনীতির অনেক গোপন চাল গোপন সত্য না জেনেই রাজনীতির খেলায় মত্ত হচ্ছে, পরিনামে একটি সময় হতাষা, পরাজয়, নতুবা করুন মৃত্যুকে বরন করে ঝরে পরতে হচ্ছে। আমরা যদি বিখ্যাত রাজনীতিবীদদের জীবনীগুলো সঠিক ভাবে অধ্যায়ন করি তবে এর কিছু সত্য সর্ম্পকে উপলব্ধি করতে পারবো। বর্তমান রাজনীতিতে আমাদের রয়েছে চর্তুমুখী সমস্যা, প্রথমত দেখা যায় একই দলের একাধিক জন প্রতিনিধি বা নেতা তৈরী হয় ফলে সৃষ্টি হয় ক্ষমতা ভাগা ভাগি নিয়ে দ্বন্দ, কে প্রতিনিধিত্ব করবে সেটি নিয়ে লড়াই, কেন্দ্রিয় নেতারা কাকে সিলেকশন দিবে সেটি নিয়ে দ্বিধা। প্রভাব বিস্তারে মত পার্থক্য। দ্বিতীয়ত ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ তো রয়েছেই, রাজনীতিতে একটি কথা সত্য শুধু জনগনের ভালো করেই যে টিকে থাকা যাবে তা নয়, রাজনীতিতে রয়েছে দমিয়ে রেখে টিকে থাকার মত চরম অসভ্য সত্যটিও। তৃতীয়ত জনগনের মন জুগিয়ে চলা, জনগন এ এক এমনই জিনিস যা কখন ঘাড় ত্যড়া করে বসে তার কোন ঠিক নেই তাই জনগন যদি ঠিক না থাকে বা জনগনকে যদি আপনি কনভেন্স করতে না পারেন তবে আপনার পতন অবশ্যম্ভাবি। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো, আপনি কখনই সকল প্রকার, সকল শ্রেনীর লোকদের মন যুগিয়ে চলতে পারবেন না। একজন মানুষের পক্ষে তা কখনই সম্ভব নয়, তাই এসকল ক্ষেত্রে তান্ত্রিকতার আশ্রয় নেয়াই চিরায়িত নিয়ম। চতুর্থত চাটুকদারি লোকদের চেনা, প্রতিটি রাজনীতিতেই রয়েছে কিছু সুযোগ সন্ধানী ও শুয়ো পোকা যারা আপনার খেয়ে আপনার সামনে আপনার গুন গেয়ে আপনার আপনাকে দিয়েই আপনার ক্ষতি সাধন করবে। আপনি হয়তো তাদের দেখে সাধারন ভাবে তখনি বুঝতে পারবেন যখন ‍বুঝে আর আপনার করার কিছু থাকবে না। বিধায় এমন লোকদের সময় থাকতে চিনতে না পারলে আপনার ভরা ডুবি ঠেকানো স্রষ্টার পক্ষেও সম্ভব নয়।

আপনাকে আপনার আধিপত্য, প্রভাব, জনগনের সহমর্মিতা, তাদের ভালোবাসা সকল কিছু টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই আমাদের সাহায্য নিতেই হবে। কারন আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনি আপনার কাজ দিয়ে জনগনের মনে স্থান করে নিবেন তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন, আপনি হয়তো জাননে’ই না, একজনার ভালো করতে গিয়ে ১০ জনকে আপনি রুষ্ট করে বসে আছেন। আপনাকে চাতুরতার পাশা পাশি এ দিকগুলোতেও সমান ভাবে নজর দিতে হবে, নতুবা আপনি হয়তো ভোটের পূর্বের রাত্রিতেও দেখবেন সংখ্যা গরিষ্ট ভাবে আপনার জয় নিশ্চিত, কিন্তু ভোটের দিন সন্ধায় আপনার চোখের পানি মোছারও লোক খুঁজে পাবেন না।

আজকে আমাদের আলোচনার এখানেই ইতি টানছি। পরবর্তী আলোচনার মধ্যে আমরা এর পঙ্খানু পঙ্খানু দিকগুলো তুলে ধরার অভিপ্রায় রইলো।

Sharing is caring!

Top
error: Content is protected !!